28/12/2025
শুনলাম আমাদের গ্রামের মোড়ল নির্বাচন করা হয়েছে।নতুন কেউ নয়—যিনি দীর্ঘদিন ধরে ছিলেন, তাকেই আবার বসানো হয়েছে।হাস্যকর অথচ দুঃখজনক বিষয় হলো,এই মানুষটি বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন—আর যাঁরা তাঁকে আবার নির্বাচন করলেন,তাঁদের অনেকেই সেই একই দুর্নীতির অংশ।“রাজা উলঙ্গ, সবাই দেখছে, কিন্তু বলার সাহস নেই।”কিন্তু গল্পে তো এটাও আছে—একটা ছোট ছেলে, যার ভয় নেই, যার কোনো স্বার্থ নেই,সে-ই বলে ওঠে—“রাজা, তোর কাপড় কই?”আজ প্রশ্নটা খুব গুরুতর—আমরা কি সেই ছোট ছেলেটার সমাজ তৈরি করছি,নাকি এমন এক সমাজ বানাচ্ছি যেখানে সত্য বললে মানুষকে ‘সমস্যা’ হিসেবে দেখা হয়?যারা পরিবর্তন চায়,যারা প্রশ্ন তোলে,যারা অন্যায়কে অন্যায় বলে—তাদের আজ আলাদা চোখে দেখা হচ্ছে।তাদের বলা হচ্ছে উগ্র, অশান্তি সৃষ্টিকারী।আর যারা চুপ করে থাকে,যারা অন্যায় মেনে নেয়,তারাই নাকি “বুদ্ধিমান” ও “ভদ্র”।তাহলে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কী শিক্ষা দিচ্ছি?সত্য বলবে না? চুপ থাকলেই নিরাপদ?অন্যায়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই জীবনদর্শন?সমাজ বদলায় তখনই,যখন কেউ একজন সেই ছোট ছেলেটার মতো সাহস করে প্রশ্ন করে।প্রশ্ন হলো—আমরা কি তাকে সাহস দেব,না তাকে চুপ করিয়ে দেব?
👉 আমরা কি শেখাচ্ছি যে দুর্নীতি করলে কিছু হয় না?
👉 আমরা কি শেখাচ্ছি যে ক্ষমতা থাকলে নৈতিকতা অপ্রয়োজনীয়?
👉 আমরা কি শেখাচ্ছি যে সৎ থাকলে চুপ করে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ?
1️⃣ “দুর্নীতিগ্রস্তকে আবার পদে বসানো হয় যখন, তখন শুধু মানুষ নয়—বিবেকও হারায়।”
2️⃣ “অন্যায় টিকে থাকে অপরাধীর জোরে নয়, ভালো মানুষের নীরবতায়।”
3️⃣ “আজ আমরা চুপ, কাল আমাদের সন্তানরা প্রশ্ন করবে—তখন জবাব থাকবে না।”
4️⃣ “ক্ষমতা বদলায় না, মানুষকে মানুষ বদলায় ক্ষমতার মানে।”
আজ যারা বলছে—“এতে নতুন কী আছে?
সবাই তো করে,আমরা কী ই বা করতে পারি?” তারা বুঝছে না—এই চুপ থাকাটাই আসলে সবচেয়ে বড় অপরাধ।হয়তো একজনের প্রতিবাদে কিছু বদলাবে না,কিন্তু প্রশ্ন না করলে কিছুই বদলাবে না—এটা নিশ্চিত।পরিবর্তন চাইলে চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করতে হয়।চুপ থাকাই যদি বুদ্ধিমানের কাজ হয়,তাহলে ভবিষ্যৎটা কার?