14/03/2025
পশ্চিমবঙ্গের জমঈয়তে আহলে হাদীস এর সম্মানিত আমীর, শাইখ সফিউর রহমান মোবারকপুরী এবং আল্লামা ওবায়দুল্লাহ মুবারকপুরী রহিমাহুল্লাহ এর সুনামধন্য ছাত্র
শাইখ Abdullah Salafi হাফিযাহুল্লাহ এর সাথে আসরের পূর্ব থেকে প্রায় রাত বারোটা পর্যন্ত সময় পার করলাম।
আলহামদুলিল্লাহ, মনে হল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন গুলোর একটি। একজন দুনিয়াবিমূখ অনাড়ম্বর আলেমে দ্বীন। তাঁর এত পরিমাণ নুসূস তথা কুরআন ও হাদীসের দলীল মুখস্থ! আমি অবাক অপলক নেত্রে কেবল তাকিয়ে রইলাম। দলীলের প্রতি তাঁর যে ভালোবাসা, আর বিশুদ্ধ হাদীস পেলেই তা আমল করার উদগ্র বাসনা আমাকে আপ্লুত করেছে।
এই বয়োবৃদ্ধ আলেম পুরো জীবনটাই কাটিয়েছেন দাওয়াতি মাঠে। অভিজ্ঞতার ঝুলি যেন এক অথই সমুদ্র। তাঁর দাওয়াতি কারগুজারী একেকটা ইতিহাসের মত।
সবচেয়ে ভাল লেগেছে যেটি, তাহল তিনি অত্যন্ত অমায়িক এবং মিশুক মানুষ। সদাহাস্যজ্জল এই মানুষটি সকলের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র, তা বুঝতে পারলাম সাক্ষাত প্রার্থীদের উপচে পড়া ভীর দেখে। আসর থেকে প্রায় রাত বারোটা পর্যন্ত কত মাদানী, ডক্টরেট ডিগ্রীধারী, সাধারণ মানুষ, মদিনা ভার্সিটির ছাত্র এবং শুভাকাঙ্খীরা সাক্ষাত করলেন।
আরেকটি বিষয় অত্যন্ত ভাল লাগল, প্রতিটি ছাত্র ও আলেমদের কে খুব আকুতির সাথে আবেদন করছিলেন; আপনারা দেশে আসুন, দাওয়াতি কাজে যুক্ত হন। আমাদের পশ্চিমবঙ্গে প্রকৃত আলেমের খুব অভাব। যারা একটু জ্ঞানী গুণী তারা সবাই মুম্বাই সহ অন্যত্র সেটেল হচ্ছে। অনেকেই ফারেগ হয়ে সৌদীতেই থেকে যাচ্ছেন। এই হতভাগা পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের কি হবে?
উনি একটি বিশাল মাদ্রাসা চালু করেছেন, " জামিয়া সিরাতুল মুস্তাকীম " বাংলায় " সরল পথ একাডেমী। উনার প্রতিষ্ঠানে তিনি হারাম উপার্জনকারী দের থেকে কোন প্রকার সাহায্য গ্রহণ করেন না।
উনারা ছয়ভাই, সবাই যোগ্য আলেম। তাঁর বাবা ও দাদা অত্যন্ত যোগ্য ও মুনাজির আলেম ছিলেন। গ্রামের পর গ্রাম তাঁর দাদা ও বাবার হাতে আহলে হাদীস হয়েছিলেন।
মহান আল্লাহ এই মহাপুরুষ কে আমরণ দ্বীনের খিদমত করার তাওফিক দান করুন।
বেশ কিছুদিন ধরেই বেশকিছু রোগে ভুগছেন।
মহান আল্লাহ তাঁকে আরোগ্য দান করুন।
বয়সে বৃদ্ধ হলেও কর্মস্পৃহাতে একজন তাগড়া যুবক। মহান আল্লাহ তাঁকে কবুল করুন।
( আমাদের অজান্তেই শাইখের সাথে ছবিগুলো উঠিয়েছেন ভাইরা ভাই Abdur Rahim হাফিযাহুল্লাহ)
লিখেছেন Abdullah AL Faruk Madani হাফিযাহুল্লাহ।