14/05/2025
গল্প :- #দ্যা_অবশেসন
লেখনীতে:- #আফি_অক্তার_সারু
:-(17)
✍️🍂
আজ তালুকদার মেনশন জাঁকজমকপূর্ণ করে সাজানো হয়েছে। তালুকদার বংশের ছোটো ছেলের বিয়ে বলে কথা। দেশের ও দেশের বাইরের সবরকম বিজনেস ম্যানরা ইনভাইট তালুকদার ম্যানশন এ। আজ সাইলা ও ইউভান এর হলুদ সন্ধ্যা আজ। সাইলাকে পার্লার থেকে বিউটিসান এসে সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিয়েছে পরনে হলুদ লেহেঙ্গা। মাশাল্লাহ অনেক মানিয়েছে সাইলাকে। আজ অনুষ্ঠানের theme হবে হলুদ ড্রেস।
তুষার সাবেমাত্র সাওয়ার সেরে বাইরে এসে দেখে তার এলোকেশী তার জন্য সর্বকিছু ড্রেস রেডি করে রেখেছে। ইদানিং তার বউয়ের মধ্যে বউ বউ ভাব ফুটে উঠেছে। হাসতে হাসতে বেডের উপর থেকে সেরোয়ানি পড়তে পড়তে আয়েশাকে ডাক দিলো তুষার
"এলোকেশী, এলোকেশী! এত মানুষের মাঝে তুষারের দেওয়া ব্যাক্তিগত নামে ডাকাতে আয়েশা লজ্জা পেল খানিকটা। সামনে মুরুব্বি মানুষ বসে আছে আর এই লোক তাকে( এলোকেশী) বলে ডাকছে
-------------------------+
আজ আফিদের পরিবারেরও সবাই উপস্থিত তালুকদার বাড়িতে। এইমাত্র তারা পৌছেছে তাই আয়েশা দেখা সাক্ষাৎ করছিল তার , আম্মু , আব্বু, বড়আম্মু, বড়আব্বু ,ভাই সবার সাথে আর এই সময় ডাক পড়ে তুষার এর। হেসে সুফিয়া বিবি (আয়েশার আম্মু) বলে উঠলেন "যা তুই জামাই তোকে ডাকছে।
আয়েশা রুমে প্রবেশ করতে করতে বলল- "কি হয়েছে? সব তো আমি বাইরে রেখে গিয়েছিলাম।"
আয়েশার কথা শুনে পিছন ফিরে তাকালো তুষার। অমনি দেখা মেললো কালো ঘন চুলের মালিকের। পড়নে হলুদ শাড়ি আয়েশা হলুদ ফর্সা হওয়ায় ভালোই মানিয়েছে গায়ে। একেবারে আকাশ থেকে নেমে আসা পরীর ন্যায় লাগছে তুষারের এলোকেশীকে।
"আমার সেরোয়ানির বোতাম লাগিয়ে দাও!" (তুষার)
"আপনি এটার জন্য আমাকে ডাকলেন?" (আয়েশা)
"হুমম। আমার বউকে আমি ডেকেছি তাতে তোমার কি?” আয়েশা আলতো হাতে তুষারের বোতাম লাগিয়ে দিচ্ছে আর তুষার ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তার এলোকেশীকে, পর্যবেক্ষন করছে। আয়েশার কাজল কালো আঁখিতে বরাবরই তুষার চোখ আটকে যায়। কি আছে এই চোখে! কেন বারবার তুষারকে বেহাল করে দেয় এই একজোড়া চোখ।
"হয়ে গিয়েছে। এবার চলুন তারাতাড়ি ফাংসান শুরু হয়ে যাবে?? বলেই রুম থেকে বেরোনোর উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই তুষার খোপ করে আয়েশার হাত ধরে ফেলে। নিজের কাছে টেনে বলে।
এলোকেশী। You are looking like a angle. বলেই আয়েশার চল কানে গুজে দিল তুষার। অতি লজ্জায় মরিমরি হয়ে দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল আয়েশা,
ইউভান, তুষার, সাঈলা, আয়েশা , আর ইরফান, রাহাত স্টেজে বসে গল্পের ঝুড়ি নিয়ে বসে আছে। এদিকে ঈশান তাঁর বিজনেস পার্টনারের সঙ্গে ড্রিংক করছে মনোযোগ সহকারে। ঠিক তখনই মিউজিক বক্সের গান বেজে উঠলো
- Bole chuliya, Bole Kangna, Hay main ho gayi teni Sajna Tere bin jiya nayon lagda main toh maar gay: haan Lejja lejja Soniye lejja lejjebo
আফি সিঁড়ির উপর থেকে গানের তালে তাল মিলিয়ে নীচে নামছে। নীচে নেমেই আফির নাচে যোগ দিল আয়েশা আরও অনেক মেয়েরা। এদিকে আফিকে প্রথম নাচ করতে দেখে চোখ দাঁড়িয়ে গেছে ঈশানের। সে আশা করেনি তার চেরি ব্লসম এত সুন্দর নাচতেও পারে। গান শেষ হতেই আফি, সাইলা আর ইউভানকে স্টেজ থেকে তুলে এনে ড্রান্স ফ্লারে নিয়ে আর এসে ঈশানের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো আফি। ইউভান একহাত সাঈলার কোমরে রাখল আর অন্য হাত সাইলার হাতে রাখলো। তারপর গানের তালে তালে ড্রান্স
Janam Janam, Sath chalna yuhi,
Kasam Tumein Kasam. Aake Milna Yuhi Mere Hoke Hamesha hi nehna Kabhi na Kenna albida aahaa aahaa.
ঈশান একমনে বিজনেস সর্ম্পকে কথাবার্তা বলছে ক্লাইনটদের সাথে আর আফি ঈশানকে খুটে খুটে পর্যবেক্ষণ করছে। এই যে হলুদ পাঞ্জাবীতে মারাত্মক সুন্দর লাগছে ঈশানকে। আফি কোনোদিনও ঈশানকে পাঞ্জাবীতে দেখেনি তাই হয়তো এতটাই আকর্ষণীয় লাগছে তার কাছে আর আফি যদি পিছনে ঘুরে দেখতে তাহলে হয়তো দেখতে পেত একজোড়া চোখ তাকে কতটা ঘোরলাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। যেন সে অনেক বছরকার তৃষ্ণা আফিকে দেখে মেটাচ্ছে। সেই অজানা চোখ দুটির মালিক তার হাতে থাকা ওসাইনের গ্লাসটা হাতে চেপে ভেঙে ফেলল ফলে কিছু কাঁচ ঢুকে যাওয়ায় গলগল করে লাল তাজা রক্ত বয়তে আরম্ভ করল কিন্তু তাতে তার কোনো হেলদোল নেই। সেই লোকটি আপনমনে আওরালো - "আফি তুমি তো আমারই ছিলে তাহলে ঈমানের কিভাবে হলে। আমি যে তোমাকে ছাড়া নিঃস্ব, ইশানের দিকে তাককরা তোমার এই চাহনী আজ আমার জন্য বরাদ্দ থাকার কথা ছিল তাহলে ঈশান কেন এর ভাগীদারি হল আফি।"
*******************************
আফি কখন থেকে লক্ষ্য করছে একটা মেয়ে খেয়ে ফেলা দৃষ্টিতে তার স্বামীর দিকে তাকিয়ে আছে। যেন সুযোগ পেলে এক্ষুনি গিলে ফেলবে। আফি সহ্য করতে না পেরে হাতে থাকা হলুদের বাটি নিয়ে ঈমানের কাছে এগিয়ে গেল।
"মি. ভিলেন! চলুন চলুন না ওইদিকে যায়। (আফি) আফির কথা শুনে ঈমান কিছু একটা বলতে যাবে তার মধ্যে সেই মেয়েটি তড়িঘড়ি করে বলে
"দেখতে পাচ্ছো না ঈশান জরুরি কথা বলছে আর তুমি এসে ওকে ডিস্টাব করছো। জানে সাহস আছে তোমার বলতে হবে নাহলে ঈশান তালুকদারকে এভাবে ঢাকতে পারো নাকি।"
"মেয়েটির কথা শুনে মাছি তাড়ানোর মতো হাত ঝেড়ে বলল আফি- আমার জানে সাহস আছে কি নাই তা বিচার করার আপনি কেউ নয় মিস। আর হ্যা আপনার চোখ দুটো কিন্তু একটু বেশিই উড়ন্ত তাই বলছিলাম চোখ দুটোকে একটু টাইট দিয়েন তখন আবার বলা যায় না উড়তে উড়তে একেবারে উপরে চলে গেছে ফিরে আনা মুশকিল হবে বুঝলেন। পরপুরুষের দিকে নজর দিবেন ভালো কথা কিন্তু আমার হাসবেন্ডের দিকে নজর দিলে চোখ তু
তুলে কুকুরকে দিব বুঝলেন?
"মি. ঈশান কি বলছে এই মেয়ে আপনি marriad?"
"yes. I'm happily marriad with my wifey" در (ঈমান)
ঈমান আফির হাত ধরে সেখান থেকে চলে যায়। আফি পিছন ঘুরে সেই মেয়েটিকে ভেংচি কাঁটে। আস্তে করে বলে
"কত বড় সখ আমার মি. ভিলেনের দিকে নজর দিবে।" (আফি)
"চেরি ব্লসম জেলাসি হচ্ছে?" (ঈমান)
"হ্যাঁ হচ্ছে আমার জেলাসি। কারণ আপনি একান্তই আমার।” নিজের হাতে থাকা হলুদের বাটি থেকে হলুদ নিয়ে ঈশানকে মাখাতে চাইলে ঈশান আফির হাত ধরে হলুদ আফির গালেই ও লাগিয়ে দেয়। ইশানের এই কান্ডে আফির কপালে ভাজ পড়েন। "আপনি কি আমার হাতে হলুদ ও লাগাবেন না মি. ভিলেন।" পর মুহূর্তেই আফির গালের সাথে নিজের গাল ঘষে দিল ঈশান।তারপর হাতে হলুদ নিয়ে, আফির শাড়ির ফাঁক ভেদ করে উন্মুক্ত উদরে হলুদ চুইয়ে দিল ঈশান। লজ্জায় আফি চোখ খিচে বন্ধ করে ফেললো। ঈমান আফির কানের কাছে মুখ নিমে হাস্কিস্বরে বলল-ঈশান তালুকদার যা করে সবকিছুই ইউনিক ভাবে করে।- বলেই আফির কানের লতিতে ব্রাইট করে ঈশান। আফি ব্যাথায় আর্তনাদ করে উঠে। ঈশানের কাছ থেকে ছাড়া পেয়েই এক দৌড়ে পালিয়ে যায় আফি। আফির পালানোর পানে তাকিয়ে ক্রুর হাসে ঈশান। আফি আর ঈশানের প্রেমের খুনসুটি দেখে যে একজনের মনে তীব্র দাবানল জ্বলছে সেই ব্যাপারে কেউই অবগত নয়।
সাঈলা আর ইউভানের হলুদ পর্ব সেই কখনই শুরু হয়েছে। একে একে সবাই আসছে আর হলুদ লাগিয়ে যাচ্ছে দুইজনকে।
#চলবে
( হ্যালো পাঠিকাগণরা অনেক দিন পর গল্প দিলাম আমার পরীক্ষা জন্য গল্প দিতে পারিনি আজ থেকে প্রতিদিন গল্প পাবে অনেক দিন পর গল্প দেওয়ার জন্য বড় করে পার্ট দিলাম গল্প পরে সবাই কমেন্ট করবে কেমন লাগলো সবার কাছে )
এখানে আমার Page &Group ar link deoya tkhalo tomar ei Page ar নিয়মিত গল্প পাবে
(Page)
https://www.facebook.com/share/p/16Qrk4nbEL/?mibextid=oFDknk
( Group )
https://www.facebook.com