23/09/2023
পূর্ব বর্ধমানের ভাগীরথী নদী তীরে অবস্থিত কালনার এই ১০৮ শিব মন্দির,যা আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধানে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থান তো বটেই আর হিন্দুদের কাছে ধর্মীয় স্থান ও অম্বিকা কালনার অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান এই ১০৮ শিব মন্দির যা নব কৈলাশ নামেও পরিচিত।আছে এখানে সাদা ও কালো দুই প্রকার শিবলিঙ্গই পর্যায়ক্রমে। বহির্বৃত্ত ও অন্তবৃত্তে সজ্জিত নবরত্ন মন্দিরগুলো। আঁট চালা গঠনশৈলীর এই শিব মন্দির গুলোর বাইরের বৃত্তে একটি সাদা শ্বেত মার্বেলের শিবলিঙ্গ ও একটি কালো কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গ এই পর্যায়ক্রমে সাজানো। আর ভিতরের বৃত্তে সবগুলোই সাদা শ্বেত মার্বেলের শিবলিঙ্গ,যে সাদা শিবলিঙ্গ খুবই কম দেখার সৌভাগ্য হয়।বাইরের বৃত্তে আছে ৭৪ টি শিবমন্দির ও ভিতরে আছে ৩৪টি।মন্দিরগুলোর টেরাকোটার কাজ দেখার যত,যে মন্দির গাত্রে রামায়ণ,মহাভারতের নানান বাণী খোদিত দেখা যায়।ভিতরের মন্দিরগুলি ও বাইরের মন্দিরের মাঝে আছে সুন্দর পরিচর্যায় হরেকরকম ফুলের বাগান। কোনো একসময় ১২জন পূজারী নিত্য সেবায় নিযুক্ত ছিলেন এই মন্দিরের।বর্তমানেও পুজো হয় তবে শিবরাত্রির দিন ঐশ্বরিক শোভা দেখা যায় এই মন্দিরে। দূর দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায় মন্দিরকে ঘিরে।
মন্দিরটি নির্মাণ করেন ১৮০৯এ বর্ধমানের মহারাজা তেজ বাহাদুর। তিনি ছিলেন শিব ভক্ত।শিবের ধ্যান থেকেই জন্ম নেয় শিব মন্দির তৈরির ভাবনা,যদি কারোর মতে ১০৮ রুদ্রাক্ষ মালা জপ করতে করতে এই ১০৮ মন্দির স্থাপনের ভাবনা আসে মহারাজের।
সকাল ৭টা থেকে ১২টা অবধি খোলা আবার বিকাল ৪টে থেকে ৯টা অবধি খোলা। কোনো প্রবেশ মূল্য নেই।