M.Ajoy Ajoy Mazumder Siliguri.

28/05/2026

এক জোড়া চশমা আর এক কাপ চা।
অজয় মজুমদার।

​পৌষের শেষ, বাইরে তখনো কুয়াশার চাদরটা ভালোভাবে গোটায়নি। শিউলি গাছের তলায় ভেজা ঘাসের ওপর দুটো টুনটুনি পাখি তিড়িং-বিড়িং করে নাচছে।
​বিছানা ছেড়ে নামতেই চারুরানি দেবীর হাঁটু দুটো চড়চড় করে উঠল। বয়েস তো আর কম হলো না, পঁচাত্তরের কোঠায় পা দিয়েছেন। কিন্তু ওই যে স্বভাব! ভোর সাড়ে পাঁচটায় ঘড়ির অ্যালার্ম বাজার আগেই তার চোখ খুলে যায়। গায়ে একটা পুরনো খয়েরি রঙের শাল জড়িয়ে তিনি রান্নাঘরে এলেন। উদ্দেশ্য একটাই— উনুন ধরিয়ে জল গরম করা। অবিনাশবাবুর আবার সকাল সকাল এক কাপ আদা-মরিচ দেওয়া গরম চা না হলে চলে না।
​ওদিকে ঘরের ভেতর, খাটের ওপর বসে অবিনাশবাবু তখনো নিজের চশমাটা হাতড়াচ্ছেন। চশমা জোড়া নাকের ডগায় আসতেই কাশির একটা হালকা দমক সামলে নিয়ে তিনি বাইরের দিকে তাকালেন। রান্নাঘর থেকে খড়কুটো আর কাঠের আগুনের হালকা ধোঁয়া বেরোচ্ছে।
​অবিনাশবাবু মনে মনে চটে উঠলেন, "এই একরোখা বুড়িটাকে নিয়ে আর পারা গেল না! ডাক্তারবাবু পরিষ্কার বলেছেন এই ঠান্ডায় ভোরে উঠে ধোঁয়ার মধ্যে না যেতে, কিন্তু শুনবে কে!"
​লাঠিটায় ভর দিয়ে, চটি জোড়া পায়ে গলিয়ে অবিনাশবাবু গুটি গুটি পায়ে রান্নাঘরের দাওয়ায় এসে দাঁড়ালেন। দেখলেন, চারুরানি ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ করে ফুঁ দিয়ে উনুন ধরাবার চেষ্টা করছেন, আর ধোঁয়ায় তাঁর চোখ দুটো লাল হয়ে জল বেরোচ্ছে।
​অবিনাশবাবু দরজার চৌকাঠে লাঠি দিয়ে একটা ঠকঠক আওয়াজ করলেন। কৃত্রিম গাম্ভীর্য নিয়ে, গলাটা খাঁকরে বললেন, "কী হচ্ছেটা কী শুনি? এই কুয়াশার মধ্যে চাদরটা ভালো করে না জড়িয়েই রান্নাঘরে ঢুকে পড়া হয়েছে? রোগটা তো বাঁধাবে নিজের, আর ভুগতে হবে আমায়!"
​চারুরানি উনুন থেকে মুখটা ফিরিয়ে আঁচল দিয়ে চোখের জলটা মুছলেন। তারপর ফোঁকলা মুখে একটুখানি ঝাজালো সুরে বললেন, "আহা রে! আমার জন্য ওনার কত চিন্তা! নিজে যে কাল রাত থেকে খুসখুস করে কাশছ, মাফলারটা গলায় না জড়িয়েই বাইরে চলে এলে, তার কী? ঠাণ্ডা লেগে যদি জ্বরটা আবার বাড়ে, তখন এই বুড়ো বয়সে সাধ্যি কার যে তোমার সেবা করে!"
​"আমি তো চাদর জড়িয়েই এসেছি, আর এই দেখো মাফলারটাও এনেছি," অবিনাশবাবু হাতের মাফলারটা দেখিয়ে একটু আমতা আমতা করলেন। আসলে তাড়াতাড়িতে ওটা গলায় জড়াতে ভুলেই গিয়েছিলেন।
​চারুরানি উনুন থেকে একটা জ্বলন্ত কাঠের টুকরো একপাশে সরিয়ে রেখে উঠে দাঁড়ালেন। অবিনাশবাবুর হাতের থেকে মাফলারটা কেড়ে নিয়ে নিজেই পরম যত্নে বুড়ো বরের গলায় ভালো করে জড়িয়ে দিলেন। মুখটা গম্ভীর রাখার চেষ্টা করলেও, ঠোঁটের কোণের আলগা হাসিটা লুকোতে পারলেন না।
​বললেন, "হয়েছে, আর বাহাদুরির জ্যাঠামো করতে হবে না। চলো, দাওয়ায় বোসো। চা হয়ে এসেছে।"
​দাওয়ার কোণে পেতে রাখা দুটো কাঠের পিঁড়িতে দুজনে পাশাপাশি বসলেন। চারুরানি ধোঁয়া ওঠা দুটো মাটির ভাঁড়ে আদা-চা এনে অবিনাশবাবুর হাতে দিলেন।
​কুয়াশাভেজা সেই ভোরে, চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিতে দিতে অবিনাশবাবু চারুরানির দিকে তাকিয়ে হঠাৎ চশমার ওপর দিয়ে মিটিমিটি হাসলেন। চারুরানিও তাঁর সেই চিরপরিচিত ফোঁকলা দাঁতের হাসি ছড়িয়ে দিলেন।
​বাইরে তখনো পৌষের কনকনে হাওয়া, কিন্তু সেই জীর্ণ দাওয়ায় দুটো বুড়ো-বুড়ির বসন্তের মতো ওমে ভরা হাসির শব্দে চারপাশটা যেন এক লহমায় মায়াময় আর প্রেমময় হয়ে উঠল। জীবনের পঞ্চাশটা বছর পেরিয়ে এসেও, ভালোবাসার এই ওমটুকু একটুও কমেনি, বরং চুলে ধরা পাকের মতোই তা আরও গাঢ় হয়েছে।

27/05/2026

কোলাজ: অবিন্যস্ত ক্যানভাস।

অজয় মজুমদার।

​চাঁদটাকে ভেবেছিলাম একটা জলছাপ
তোমার চিবুকের কোণে আলতো ছুঁয়ে থাকবে
ভেবেছিলাম এক ফালি আলো এসে মুছে দেবে সব ধূসরতা
​এখন যতদূর আলো, ততদূর এক জমাট নীরবতা
​আসলে এভাবেই তো হয়__
সবচেয়ে চেনা হাসির রেখাটাও কুয়াশার বাঁকে হারিয়ে যেতে বেশি সময় নেয় না
আস্থার যে চাদরটা আমরা বুনি
তা এক নিমেষেই ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয় কোনো এক অদৃশ্য জাদুকর
গিলি গিলি গে... ব্যস খেলা শেষ
​তারপর পড়ে থাকে শুধু কিছু যান্ত্রিক অভ্যাস__
এক কাপ লিকার চা আর নিজের ভেতর একলা ডুব দেওয়া
খুঁজে নেওয়া নিজেরই এক ভাঙা আশ্রয়
​গ্রহ-নক্ষত্রের এই যে অনন্ত হিসেব
পূর্ণিমার পর অমাবস্যার এই যে চেনা জ্যামিতি
তারই মাঝে হঠাৎ কোথাও ছন্দপতন ঘটে
তখন আর কোনো ছক মেলে না, সব এলোমেলো হয়ে যায়
​ঠিক তখনই__
ঋত্বিকের ভাঙা ফ্রেম আর ভ্যান গঘের তীব্র হলুদ রঙ মিলেমিশে একাকার হয়
রবীন্দ্রনাথের কোনো এক বর্ষার গান
তখন বুকের ভেতর নতুন করে বাঙ্ময় হয়ে ওঠে
​আমিও তবে একটা মরণ ঝাঁপ দিলাম__
কোনো অতল খাদে নয়, শব্দের আর রঙের এক তীব্র সমুদ্রে
পুরানো সুরেই না হয় বাঁধা পড়ুক এক সম্পূর্ণ নতুন লিরিক
​মাটি, হাওয়া, জলের এই যে জৈবিক খাঁচা
তারই দেওয়ালে এবার লেপে দেবো একমুঠো লাল আর নীল
সময় হয়তো মুছে যাবে,
কিন্তু পাণ্ডুলিপির পাতায় রয়ে যাবে সেই জেদি রঙের দাগ
​"The camera is an eye in the head of a poet."
__Orson Welles

​স্বগতোক্তি
​রঙের কঙ্কাল

এই ছবিটা তুলেছিলেন এক ট্রাক চালক রাত ২টা। বৃষ্টিভেজা নির্জন গ্রামীণ রাস্তা,দূরে যে লাল টেইল লাইট দেখা যাচ্ছে? ওটাই সেই গ...
25/05/2026

এই ছবিটা তুলেছিলেন এক ট্রাক চালক রাত ২টা। বৃষ্টিভেজা নির্জন গ্রামীণ রাস্তা,দূরে যে লাল টেইল লাইট দেখা যাচ্ছে? ওটাই সেই গাড়ি, যে গাড়িটা তাকে ফেলে চলে যাচ্ছিলো।

বিড়ালটা রাস্তার মাঝখানে বসে ছিলো চুপচাপ।
ভিজে একাকার, সে দৌড়ায়নি, কাউকে ডাকেনি।
শুধু তাকিয়ে ছিলো যতক্ষণ না লাল আলোটা বাঁক ঘুরে অদৃশ্য হয়ে যায়।

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪,দক্ষিণ ক্যারোলিনার এক ফাঁকা কৃষিজমির রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন এক দীর্ঘপথের ট্রাক চালক। হঠাৎ হেডলাইটে তিনি দেখলেন ছোট্ট একটি বিড়াল রাস্তার মাঝখানে বসে আছে।
সে দক্ষিণমুখী হয়ে বসেছিলো ঠিক সেই দিকেই তাকিয়ে, যেদিকে একটু আগে একটা গাড়ি চলে গেছে।

চালক গাড়ি থামালেন কিন্তু বিড়ালটা নড়লো না।
তিনি কাছে গেলেন তবুও না। শেষে তিনি ভেজা রাস্তায় হাঁটু গেড়ে বসলে বিড়ালটা ধীরে মুখ তুলে তার দিকে তাকায়।

পরে তিনি বলেছিলেন—

“৩১ বছর ধরে রাস্তায় আছি। অনেক কিছু দেখেছি। কিন্তু কোনো প্রাণী আমাকে এমনভাবে কখনো দেখেনি ও ভয় পায়নি, রাগও করেনি শুধু বিভ্রান্ত লাগছিলো। যেনো বুঝতে চাইছিলো সে কী ভুল করেছিলো”

তিনি বিড়ালটাকে কোলে তুলে নিলেন কোনো বাঁধা দিলো না। তার শরীর কাঁপছিলো শুধু ঠান্ডায় নয়, ভেতরের আতঙ্কে।
পরে ভেটেরিনারি ডাক্তার বলেন, সেই কাঁপুনি ছিলো গভীর মানসিক আঘাতের লক্ষণ।
বিড়ালটার গলায় ছিল ফিকে নীল রঙের একটা কলার। কোনো নামফলক ছিলো না মাইক্রোচিপও না। কিন্তু বোঝা যাচ্ছিলো, সে একসময় কারও আদরের ঘরের বিড়াল ছিলো।
তারপর কোনো এক মানুষ তাকে রাত ২টায়, বৃষ্টির মধ্যে, এক অচেনা নির্জন রাস্তায় ফেলে রেখে চলে গেছে।

ট্রাকের কেবিনে বসানোর পরও বিড়ালটা একটানা সামনের রাস্তার দিকে তাকিয়ে ছিল— ঠিক সেই দিকটায়, যেদিকে গাড়িটা চলে গিয়েছিলো।
এক ঘণ্টারও বেশি সময় সে তাকিয়ে ছিলো।
চালক বলেছিলেন, “মনে হচ্ছিল, ওর চোঁখ পলকই ফেলছিলো না।”
বিড়ালটাকে তুলে নেওয়ার আগে তিনি একটা ছবি তুলেছিলেন। পরে বলেছিলেন—
“মনে হয়েছিলো এটা মানুষদের দেখা দরকার।

“একটা ভেজা বিড়াল, অন্ধকার রাস্তা, দূরে মিলিয়ে যাওয়া লাল আলো, আর বৃষ্টি। সে বসে আছে, কারণ এখনো বুঝতে পারেনি— কেউ আর ফিরে আসবে না।”

পরদিন তিনি ছবিটা একটি ট্রাকার কমিউনিটি ফোরামে পোস্ট করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটা ছড়িয়ে পড়ে। লাখ লাখ মানুষ ছবিটা শেয়ার করে।
সবচেয়ে বেশি লেখা হয়েছিলো পাঁচটি শব্দ—

“আশা করি তারা কখনো জেনো শান্তিতে ঘুমাতে না পারে।”

পরীক্ষা করে জানা গেলো, বিড়ালটার বয়স প্রায় ৩ বছর। সে বন্য নয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, যত্নে বড় হওয়া ঘরের বিড়াল। নিয়মিত নখ কাটা হতো। টিকা দেওয়া ছিলো,তাকে ভালোবাসা হতো অনেক।
কিন্তু কোনো এক বৃষ্টিভেজা রাতে, কেউ তাকে গাড়িতে তুলে এনে রাস্তার ধারে নামিয়ে রেখে চলে গেছে।
তার শরীরে কোনো বড় আ/ঘাত ছিলো না,কোনো অসুখও না। আচরণগত সমস্যাও না, অর্থাৎ তাকে ফেলে যাওয়ার কারণ সে নিজে ছিলো না।

কিন্তু তার শরীর অন্য গল্প বলছিলো।

তার শরীরের তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিলো।
সে অনেকক্ষণ ঠান্ডা বৃষ্টিতে বসেছিলো,তার স্ট্রেস হরমোন এত বেশি ছিলো যে ডাক্তার বলেছিলেন— সে গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে আছে।

সে ৫ দিন কিছু খায়নি।

ফস্টার হোমে সে খাঁচার পেছনে মুখ ফিরিয়ে বসে থাকতো কারও ডাকে সাঁড়া দিতো না,খেলতে চাইতো না, নিজেকে পরিষ্কারও করতো না।
শুধু একটা জিনিসে প্রতিক্রিয়া দেখাতো—
বাইরে কোনো গাড়ির শব্দ হলেই সে উঠে দরজার দিকে তাকিয়ে থাকতো প্রতিবার।
একটা নির্দিষ্ট শব্দের অপেক্ষায়, যা আর কোনোদিন ফিরবে না।

ছয় দিনের মাথায় ট্রাক চালক ফোন করে জানতে চাইলেন, কেউ কি তাকে নিতে এসেছে ?
___উত্তর আসলো 'না'____
পরে তিনি চার ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে তাকে নিতে এলেন।
ফস্টার ভলান্টিয়ার বলেছিলেন—

চালক যখন খাঁচার সামনে বসে দরজা খুললেন, বিড়ালটা অনেকক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে ছিলো। তারপর ধীরে বেরিয়ে এসে তার কোলে উঠে বুকের সঙ্গে মুখ গুঁজে দেয়।
সে চিনতে পেরেছিলো পৃথিবীর একমাত্র মানুষটাকে, যে থেমেছিলো তার জন্য।

চালক তার নাম রাখলেন “ফোরটিন” — ১৪ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিতে।

তিনি বলেছিলেন—
“আমি চাই, সে দিনটাকে অন্যভাবে মনে রাখুক।
যেদিন তাকে ফেলে যাওয়া হয়েছিলো, সেদিন হিসেবে নয় যেদিন কেউ তার জন্য গাড়ি থামিয়েছিলো সেই দিন হিসেবে।”

এখন ফোরটিন জর্জিয়ার এক ছোট্ট বাড়িতে থাকে। জানালার পাশে তার নিজস্ব বিছানা আছে।
তার খাবারের বাটি কখনো খালি থাকে না।
তবু আজও সে একটা কাজ করে।
চালক যখনই বাইরে থেকে বাড়ি ফেরেন— কাজ শেষে, বাজার থেকে, কিংবা শুধু ডাকবাক্স পর্যন্ত গিয়েও— ফোরটিন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে দেখে।
দেখতে থাকে, যতক্ষণ না তিনি দরজা খুলে ভেতরে ঢোকেন।

চালকের স্ত্রী বলেছিলেন—
“সে নিশ্চিত হতে চায় প্রতিবার-যেনো দেখে তিনি ফিরে আসছেন, চলে যাচ্ছেন না।”
“আমার মনে হয়, সে এটা সারাজীবন করবে কারণ শেষ যাকে সে বিশ্বাস করেছিলো, সে বৃষ্টির রাতে তাকে ফেলে চলে গিয়েছিলো।”

চালক এক বন্ধুকে বলেছিলেন—
“আমি মাঝে মাঝে ভাবি, যে মানুষটা তাকে ফেলে গেছে, সে হয়তো গাড়ির আয়নায় দেখেছিলো ছোট্ট বিড়ালটা এখনো রাস্তার মাঝে বসে আছে।”
তারপর সে বাড়ি গেছে, ঘুমিয়েছে, সকালে উঠে কফি খেয়েছে, স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে গেছে যেনো বিড়ালটা কখনো ছিলোই না তার”
কিন্তু আমি ভাবি সেই বিড়ালটার কথা।
সে বসে ছিলো বৃষ্টিতে, অন্ধকার রাস্তায়,দৌড়ায়নি শুধু বোঝার চেষ্টা করছিলো।”
সে এতটাই বিশ্বাস করতো যে শুধু বসে অপেক্ষা করছিলো, ভেবেছিলো তারা ফিরে আসবে তাকে নিতে।
আমি যখন তাকে পায় তখনও সে অপেক্ষা করছিলো।”

কিছু জিনিস সহিংসতায় ভাঙে না।
ভাঙে নীরবতায়।

একটা দরজা বন্ধ হওয়ায় দূরে মিলিয়ে যাওয়া ইঞ্জিনের শব্দে, অন্ধকার হয়ে আসা রাস্তায় আর ধীরে ধীরে বুঝতে পারায়— যাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেছিলে, সে আর ফিরবে না।
তবু কখনো কখনো—
রাত ২টায়, কোনো নির্জন রাস্তায়,
একটা ট্রাক থেমে যায়।
একজন অচেনা মানুষ নেমে আসে।
আর পৃথিবী তখন এমন একজনকে পাঠায়, যে মনে করে— অন্য কেউ ফেলে দিলেও, এই প্রাণটা থেমে যাওয়ার মতো নয়।

ফোরটিনকে বাঁচানো হয়েছিলো কারণ সে “বিশেষ” ছিলো বলে নয় বরং একজন মানুষ ভেজা অন্ধকার রাস্তায় বসে থাকা একটা বিড়ালকে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো—সে নিজেও “ফেলে চলে যাবে" এই ধরনের মানুষ নয়, আর সেটাই বদলে দিয়েছিলো দুজনের জীবন।

ফোরটিন ঘর পেয়েছিলো একজন মানুষ পেয়েছিলো কিন্তু তার অপেক্ষা থামেনি।
এমন হাজারও ফোরটিন কে রাস্তায় ফেলে যাওয়া হয় কিন্তু সব ফোরটিনের জন্য তো আর গাড়ি থামে না।

অজয় মজুমদার।
সংগৃহীত লেখা এবং ছবি।

ছেলেবেলায় বাড়ির গেট খুলে "নীল নাপিত"কে ঢুকতে দেখলেই বুকের ভেতরটা ধক করে উঠত  আর পরমুহূর্তেই সোজা দৌড়ে কোথাও গিয়ে লুকিয়ে ...
25/05/2026

ছেলেবেলায় বাড়ির গেট খুলে "নীল নাপিত"কে ঢুকতে দেখলেই বুকের ভেতরটা ধক করে উঠত আর পরমুহূর্তেই সোজা দৌড়ে কোথাও গিয়ে লুকিয়ে পড়তাম!
​তার চুল কাটার সেই পর্বটি ছিল এক চরম অগ্নিপরীক্ষা। দুই হাঁটুর মাঝে আমার মাথাটা শক্ত করে চেপে ধরে যখন পেছনের আর কানের দু'পাশের চুলে সেই "কিরকিরি" মেশিনটা চালাত— ওহ্, সে কী অদ্ভুত যন্ত্রণা! চুল কাটার চেয়ে মনে হতো যেন টেনে টেনে চুল উপড়ে নেওয়া হচ্ছে। ভয়ে আর ব্যথায় তখন চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসার জোগাড় হতো।
​আজ ভেবে দেখলে ভারী অদ্ভুত লাগে। সেই চেনা 'কিরকির' শব্দ আর নীল নাপিতের সেই ভয়ংকর মেশিনটার কথা মনে পড়লে এখন আর ভয় লাগে না, বরং ঠোঁটের কোণে জমা হয় এক চিলতে নস্টালজিক হাসি। শৈশবের সেই দিনগুলো সত্যি কত অবুজ আর রঙিন ছিল!

অজয় মজুমদার

Ranu Dutta
18/05/2026

Ranu Dutta

18/05/2026
আজকের পাহাড়িয়া টাইমস পত্রিকায়। আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ পাহাড়িয়া টাইমসএর সম্পাদকে! অগোছালো আমি....! বাজারের থলেটা সিঙ্...
17/05/2026

আজকের পাহাড়িয়া টাইমস পত্রিকায়।
আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ পাহাড়িয়া টাইমসএর সম্পাদকে!

অগোছালো আমি....!

বাজারের থলেটা সিঙ্কের পাশে নামিয়ে রাখতেই ধমকটা বেশ জোরালোভাবেই এল। গিন্নীর মেজাজ তখন সপ্তমে। তর্জনী উঁচিয়ে ঘরের চারপাশটা দেখিয়ে তিনি যা বললেন, তার সারমর্ম হলো—এটি কোনো ভদ্রলোকের বসতবাড়ি নয়, আস্ত একটা 'বস্তী বাড়ি'।
​আমি কাঁচুমাচু মুখে বললাম, "আহা, হয়েছেটা কী?"
​"আবার জিজ্ঞেস করছে কী হয়েছে!" গিন্নীর গলা চড়ল আরও এক পর্দা। "সোফার উপর বই, বিছানার উপর বই, এমনকি বাইরের ব্যালকনির চেয়ারের উপর বই! এই দেখ, ওয়াশিং মেশিনের উপর তোমার পাজামা আর দরজায় ঝুলছে জামা। মানুষের বয়স বাড়লে নাকি বুদ্ধি বাড়ে, তোমার-তো দেখছি সব উল্টো। বয়স ৭০ পেরিয়ে গেছে, অথচ গুছিয়ে রাখা শিখলেন না। এরপর যদি আর একটা বই অগোছালো দেখি, তবে সোজা আগুনে পুড়িয়ে দেব—বলে রাখলাম!"
​আমি কোনো কথা না বাড়িয়ে সোজা ড্রয়িংরুমে চলে এলাম। কথা বাড়ালে বিপদ বাড়বে বই কমবে না। সোফার ওপর থেকে বিভূতিভূষণকে তুলে বুকশেলফে রাখলাম, বিছানা থেকে জীবনানন্দকে সরালাম। পাজামা আর জামা যথাস্থানে চালান করে দিয়ে ব্যালকনির চেয়ারে এসে বসলাম।
​আসলে এই বয়েসে এসে বইগুলোই তো আসল বন্ধু। পড়ার চেয়েও বড় কথা, চোখের সামনে ওগুলো ছড়ানো থাকলে মনে হয় ঘরটা একা নয়, অনেকে মিলে আছে।
​একটু পর গিন্নী ঘরে ঢুকলেন। হাতে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা। মেজাজটা বোধহয় একটু নরম হয়েছে। চা-টা টিপয়ের ওপর রেখে তিনি নিচু স্বরে বললে, "সবই তো বুঝলাম। কিন্তু এই ধুলোবালি ভর্তি বইগুলো জাপটে ধরে এভাবে সারা ঘর নোংরা করলে তো তোমারই শরীর খারাপ করবে। শরীরটা তোমার একার নয় আমারও।"
​আমি মুচকি হাসলাম। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললাম, "আচ্ছা বাবা, এবার থেকে সব তাকে তুলে রাখব। তবে ওই যে আগুনের ভয়টা দেখালে, ওটা করো না। জানোই তো, বই পুড়লে আমার বড় কষ্ট হয়।"
​গিন্নী এবার হেসে ফেললেন। বললে, "হয়েছে, আর ন্যাকা সাজতে হবে না। ওই কোণের টেবিলটা খালি করে দিয়েছি, ওখানেই তোমার যত রাজ্যের ছাইভস্ম রেখ। কিন্তু খবরদার, সোফায় আর যেন একটাও বই না দেখি!"
​বিকেলটা হঠাৎ করেই বেশ মিষ্টি হয়ে উঠল। আমি বুঝলাম, এই বকুনি আর শাসন আসলে এক ধরনের ভালোবাসা। যা ঘরটাকে 'বস্তী বাড়ি' হওয়া থেকে বাঁচায়, আর আমাকে বাঁচায় নিঃসঙ্গতা থেকে।

অজয় মজুমদার।

মুসাফিরের মায়াতান। ​মুসাফির এ জীবনে নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেইআছে শুধু পায়ের তলায় সিক্ত ধুলো আর বুকের ভেতর এক অন্তহীন তৃষ...
12/05/2026

মুসাফিরের মায়াতান।

​মুসাফির এ জীবনে নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই
আছে শুধু পায়ের তলায় সিক্ত ধুলো আর বুকের ভেতর এক অন্তহীন তৃষ্ণা।
মুর্শেদী কলির গূঢ় সন্ধানে আমি চষে বেড়াই মহাকালের আঙিনা
যেখানে জীবনের প্রতিটি ঘাত-প্রতিঘাত মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়__
যেন কোনো এক বিরহী ‘ঠুমরী’র করুণ অথচ মায়াবী তানে।
​জীবনের সেই উত্তুঙ্গ প্রেম, যা সাগরের মতো উত্তাল
সেখানে নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়া ছাড়া কোনো গতি নেই।
ভাসতে ভাসতে ক্লান্ত কোনো এক গোধূলি বেলায়
হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়ায় বিস্মৃতির অতল থেকে জেগে ওঠা এক পুরোনো ঘাট।
​সেই ঘাটের পাষাণ ধাপে ধাপে আজও জমাট বেঁধে আছে__
ফেলে আসা সেই নিঃশব্দ ঐশীপ্রেমের স্নিগ্ধ পরশ।
সেখানে শব্দ নেই, শুধু আছে এক অলৌকিক মৌনতা
যা পৃথিবীর কোলাহল ছাপিয়ে মনে করিয়ে দেয়__
আমরা সবাই আসলে এক অদৃশ্য সুরের মায়ায় বাঁধা।

#অজয়।

স্মৃতির অলিন্দে। অজয় মজুমদার। ​অতীত কি কেবলি এক মুঠো শুকনো পাতা?নাকি ট্রাঙ্কের নিচে রাখা কোনো পুরনো মানচিত্র__যার প্রতিট...
11/05/2026

স্মৃতির অলিন্দে।
অজয় মজুমদার।

​অতীত কি কেবলি এক মুঠো শুকনো পাতা?
নাকি ট্রাঙ্কের নিচে রাখা কোনো পুরনো মানচিত্র__
যার প্রতিটি ভাঁজে মিশে আছে
হারিয়ে যাওয়া স্টেশনের নাম আর ট্রেনের বাঁশি
​সেই যে গোধূলি বেলার ম্লান আলোয়
ফেলে আসা শহরের আলপথ ধরে হাঁটতাম
সেখানে আজও কি ছায়া ফেলে
পুরনো দালানের সেই ভেঙে পড়া কার্নিশ?
​এখনও কি জলছবির মতো মনে পড়ে
পকেটে থাকা সেই আধুলি, কিংবা কোনো নামহীন চিঠি?

যাকে আগলে রাখতে গিয়ে
আঙুলের ফাঁক দিয়ে গলে গেছে বর্তমান
​স্মৃতি আসলে এক অদ্ভুত জাদুকর
যা নেই তাকেই বড় বেশি জীবন্ত করে তোলে
আর যা আছে তাকে ঢেকে দেয়
অতীতের কুয়াশা মাখা চাদরে
​সব পেয়েছি-র দেশে কোনো ঘর নেই আমাদের
আমরা শুধু স্মৃতির কঙ্কাল খুঁড়ে
জেগে তুলি এক একটা মায়া-বিস্মৃতি।

Address

Siliguri Industrial Area (Jalpaiguri)

Telephone

+917908081119

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when M.Ajoy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category