22/04/2026
"দাবী একটাই নোয়াখালী বিভাগ চাই।
এই কথায় আপোষ নাই "
বিভাগ গঠনের অন্যতম প্রধান বিবেচনা হলো দূরত্ব ও অভিগম্যতা....
১. দূরত্বের বাস্তব চিত্র
ঢাকা থেকে কুমিল্লা সদর: মাত্র ~৮০ কিমি আধুনিক মহাসড়ক ও রেলপথে ১–১.৫ ঘণ্টা।
ঢাকা থেকে নোয়াখালী সদর (মাইজদী): প্রায় ২০০ কিমি সড়ক পথে ৫–৬ ঘণ্টা....
ঢাকা থেকে হাতিয়া উপজেলা সদর: ২৫০+ কিমি সড়ক + লঞ্চ/ট্রলার/জাহাজে প্রায় ১০–১২ ঘণ্টা....
অর্থাৎ, ঢাকা থেকে নোয়াখালীর দূরত্ব কুমিল্লার প্রায় দ্বিগুণ এবং হাতিয়া উপজেলায় যেতে লাগে প্রায় তিনগুণ সময়।
এটাই প্রমাণ করে, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের প্রকৃত প্রয়োজন কুমিল্লায় নয়, নোয়াখালীতে....
২. বিকেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্য
• সংবিধান (৪ নং অনুচ্ছেদ) ও স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী বিকেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্য হলো
• দূরবর্তী, দুর্গম, প্রান্তিক মানুষের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া।
• উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় ভৌগোলিক ভারসাম্য আনা....
কুমিল্লা ঢাকার এত নিকটে যে, বিভাগীয় প্রশাসন না হলেও সেবা সহজলভ্য.....
কিন্তু নোয়াখালী, বিশেষ করে হাতিয়া– অঞ্চলের মানুষের জন্য রাজধানী থেকে সেবা পাওয়া অনেক কষ্টসাধ্য......
৩.কৌশলগত গুরুত্ব
• নোয়াখালী উপকূলীয় অঞ্চল, যেখানে জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষ, চরাঞ্চল, নদীভাঙন–বন্যা–জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী বসবাস করছে.....
• এখানে বিভাগীয় সদর গড়ে উঠলে তাদের কাছে দ্রুত প্রশাসনিক সেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সমন্বয় পৌঁছে যাবে....
• অন্যদিকে কুমিল্লা নিরাপদ, সমতলভূমি এবং ঢাকার কাছে হওয়ায় এ ধরনের বিশেষ প্রশাসনিক সুবিধার প্রয়োজন নেই.....
দূরত্বের কারণে সেবাবঞ্চিত মানুষদের কথা মাথায় রেখে “নোয়াখালী বিভাগ” গঠন সময়ের দাবি।
ঢাকা থেকে দ্বিগুণ দূরে নোয়াখালী এবং তিনগুণ দূরে হাতিয়া এ অঞ্চলের জন্য প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ অপরিহার্য।
তাই, আইন, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও দূরত্ব—সব দিক থেকে নোয়াখালী বিভাগ গঠন যৌক্তিক, সময়োপযোগী ও জাতীয় স্বার্থসম্মত....